Wednesday, July 1, 2020

গল্প_প্রতিশোধ পর্ব_1 =>


আমি গল্পের ছেলেটি গরির পরিবারের একজন সন্তান। নাম তামজিদ। বাবা মায়ের বড় সন্তান। লেখাপড়ায় অনেক মেধাবী কিন্তু বাবা মা লেখাপড়ার খরচ চালাতে সক্ষম না। তাই মামার বাসায় থাকি মামা সব পড়ালেখার খরচ চালান। আমার মামা একজন বড় ব্যবসায়ী। তার একমাত্র মেয়ে নীলা যেমন সুন্দরি তেমনি দেমাগি আমাকে একদমি সহ্য করতে পারেনা। আমি নীলাকে এই ছোট বেলা থেকেই ভালোবাসি অবেন বার বলেছি আর এর জন্য খেতে হয়েছে চড় হতে হয়েছে অপমান। চলেন দেখে নেনে একদিন এর কাহিনী।
আমি - নীলা তোকে একটা কথা বলার ছিলো....
নীলা - শোন তোর আজে বাজে কথা শোনার টাইম আমার নাই যা এখান থেকে....
আমি - প্লিজ কথাটা একবার শোন...
নীলা - আমি বলছি না এখান থেকে যা....
আমি - প্লিজ একবার শোন..??
নীলা - ওকে বল আর যদি উল্টাপাল্টা কিছু বলছ তো খবর আছে....
আমি - আসলে আমি না তোকে এই ছোট বেলা থেকেই খুব ভালোবাসি।
কথা বলার সাথে
নীলা - ছোট লোকের বাচ্ছা তোর সাহস তো কম না তুই এই কথা বলার সাহস পেলি কোথায়। ফকিন্নি হয়ে চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা বাদ দে...
আমি -........
আর - আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমার বাবার সম্পত্তি নিজের করার ধান্দা তাই না....
আমি - সত্যি নীয়া মামার সম্পর্তির উপর আমার কোন লোভ নাই। আমি সুধু তোকে ভালোবাসি।
নীলা - চুপ তোদের মতো ছোট লোকের বাচ্ছাদের কে ভালো করেই চেনা আছে। যা এখান থেকে এর পর যদি কখনো আর একবার বলিস আমাকে ভালোবাসিস তাহলে ঘার ধাক্ষা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিবো মনে থাকে যেন....
আমি আর কিছু না বলে রুমে এসে অনেক কান্না করলাম। চোক লাল হয়ে গেছে। গরিব বলে কি ভালোবাসতে পারি না। গরিব রা কি মানুষ না। নাকি গরীব দের ভালোবাসার অধিকার নাই...। গালটা ব্যাথা করছে খুব থাপ্পড় টা খুব জোরে মেরেছিলো...
মামি - ডাক দিলো আমি তাড়াতাড়ি নিজেকে কন্ট্রোল করে বল্লাম আসতেছি...
তারপর চোখ মুখ মুছে মামির কাছে গেলাম...
আমি - জি মামি বলেন...?
মামি - একি তুমার গালে এমন দাগ কেন আর তুমার চোখ গুলা এতো লাল হয়েছে কেন..???
আমি - কই কিছুনা না তো মামি...
দেখি নীলাও অবাক হয়ে তাকিয়েছে
আমি - মামি আসলে গালে মজা বসেছিলো তো তখন রাগ করে তাপ্পড় মেয়েছিলাম তাই মনে হয় দাগ হয়ে আছে....
মামি - এই টা তুমি কাজ করছো এই ভাবে কেউ চড় মারে কেউ নিজেকে....
আমি - আরে বাদ দেন তো আমি একজন গরিব বাব মায়ের ছেলে আমার কিছু হলে কিছু যায় আসে না....
বলার সাথে সাথে মামি আরেক টা থাপ্পড় দিয়ে দিলো
মামি - চুপ বেয়াদব ছেলে তুই জানস না আমি তোকে কতটা ভালোবাসি। তোর কিছু হলে আমি বাঁচতে পারবো না...
বলেই কান্না করে দিলো...
আমি - আরে মামি কাঁদেন কেন...??
মামি - তুই আমার সাথে আর কখনো কথা বলবি না
আমি - সরি মামি আমার ভুল হয়ে গেছে আর বলবো না....
মামি - আমার মাথায় হাত রেখে বল তুই আর কখনো তুই নিজেকে ছোট লোক গরীব বলবি না....
আমি - ঠিক আছে বলবো না...
এই সব দেখে মীম রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে গেলো...
এখানে আমার তেমন কোন বন্ধু ও নাই। তাই সব সময় বাসায় একাই কাটাতে হয় বিকেলবেলা একটু সাদে গেলাম। বসে বসে ভাবতেছি কবে এই গরীব ছোট লোকের খাতা থেকে নিজের নাম পরিবারের নাম মুছে ফেলতে পারবো। এমন সময় দেখি নীলা কার সাথে যেন ফোনে কথা বলতে বলতে ছাদে আসলো।
আমি অন্য দিকে মন দিলাম
ওর কিছু কিছু কথা শোনা যাচ্ছিলো
নীলা - শোনো না বাবু আমাকে বিয়ে করবে কবে....??
.....
নীলা - সত্যি বাবু...
নীলা - উম্মম্মম্মা। ঠিক আছে আমি বাবাকে কালকেই তুমার কথা বলবো যে রাজ তোমার সাথে কথা বলতে চাই।।
....
নীলা - ওকে বাবু তাহলে এখন রাখি
..
নীলা - ওকে বাই....
নীলা - ওই তুই ওখানে কেন..??? ( আমাকে বললো)
আমি - এমনি ভালো লাগছে তাই বসে আছি....
নীলা - আমি এখানে কথা বলছিলাম এই গুলা শুনছিলি তাই না....
আমি - আরে আমি তো তোর আগে আসছি ছাদে
নীলা - চুপ আমি তুই জানস আমি এই সময় ছাদে কথা বলতে আসবো তাই আগেই এসে বসেছিলি...
আমি - আরে আমি সত্যি বলছি আমার ভালো লাগছিলো না তাই এসে বসে আছি...
নীলা - ওকে যা এখান থেকে...
আমি - একটা কথা বলবো...
নীলা - চোড় খাওয়ার কথা মনে আছে...
আমি - এটা তোর ভালোর জন্যই বলবো..
নীলা - কি বল...?
আমি - এই যে তুই রাজের সাথে সম্পর্ক করেছিস এই রাজ ছেলেটা কিন্তু ভালো না..!
বলার সাথে সাথে আবার ২ টা তাপ্পড়।
নীলা - তোর লজ্জা নাই তোকে এতো অপমান অবহেলা করি তারপরেও আমাকে রাগাস....
আমি - আমি তো তোর জন্যই বললাম
নীলা - তুই কে আমার ভালো মন্দ জ্ঞান দেওয়ার...
আমি - আমি তোর ফুপাতো ভাই...
নীলা - চুপ ফকিন্নি আবার ভাই
আমি - প্লিজ নীলা এই ফকিন্নি কথাটা বলবি না এটা শুনলে খুব কষ্ট লাগে...
নীলা - তাও তো তোর লজ্জা হয় বা আমার সাথে কথা বলস...
আমি - তোর সাথে কথা না বললে তুই খুশী..??
নীলা - তুই আমার সাথে কথা না বললে আমার থেকে খুশী আর কেউ হবে না....
আমি - ওকে তোর সাথে আর কখনো কথা বলবো না...
বলেই চলে আসলাম....
তারপর থেকে আর নীলার সাথে কথা বলি না...
ভার্সিটিতে গেলাম অনেকদিন পর। নীলার বান্ধুবি মীম আমাকে খুব ভালোবাসে কিন্তু আমি নীলার জায়গায় আর কাউকে ভালোবাসতে পারবো না।
গেট দিয়ে ডুকার সাথে সাথে মীম আমার সামনে এসে দাঁড়ালো....
মীম - এতো দিনপর ভার্সিটি আসলে কেন....?
আমি - না এমনি
মীম - তুমি জানোনা আমি তুমাকে না দেখলে পাগল এর মতো হয়ে যায়....
আমি - আমি দেখ এইসব বাদ দাও আমি তুমাকে ভালোবাসি না...
মীম - আমি তো ভালোবাসি। প্লিজ চলনা একটু ওই দিকে হাটি।
আমি - কিছু না বলে চলতে লাগলাম। হঠাৎ করে নীলা কোথা থেকে জেন সামনে এসে দাঁড়ালো....
নীলা - ভালোই তো প্রথমে আমাকে ভালোবাসার ফাদে ফেলতে চাইছিলি ফেলতে পারিস নাই এখন আমার বড় লোক বান্ধুবির দিকে নজড় দিয়েছস....
আমি -........
নীলা - কিরে ছোট লোকের বাচ্ছা কোথা বলস না কেন....??
মীম - চুপ আর একটা বাজে কোথাও বলবি না ওর নামে ওকে..
নীলা - তোর এতো জ্বলে কেন ওর জন্য হুম..??
মীম - কারন আমি তামজিদ কে ভালোবাসি....??
নীলা - ওও তাই বুঝি। শোন এই ছোট লোকের বাচ্ছা তোকে ভালোবাসে না সুধু বড় লোক হওয়ার জন্য তোকে কাজে লাগাবে আর কিছু না....
চলবে,,,,,,,,,,,,
অনেক আগের গল্প,,,,ভালো লাগলো এই জন্য

No comments:

Post a Comment